মারকাযুল আযহারের সামগ্রিক লক্ষ্যকে কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্রে বিন্যস্ত করা যায়।
- শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিশেষজ্ঞ আলেম, দায়ী, গবেষক ও ইসলামী স্কলার তৈরির লক্ষ্যে শিশুশ্রেণি থেকে উচ্চতর গবেষণামুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ঐতিহ্যবাহী আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সাধারণ শিক্ষার জন্য পৃথক ও সুসংগঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে। মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করার উদ্যোগ গ্রহণ করা। মেধা, আদব ও আখলাকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে—বিশেষত মিসরের জামিয়াতুল আযহারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে—উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যও আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।
- দ্বীনি জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসার সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে দ্বীনি জ্ঞান, নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা। দেশব্যাপী বিভিন্ন এলাকায় সেমিনার, কোর্স, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মসূচির আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ইসলামী জ্ঞান সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সহজ ও প্রামাণ্য দ্বীনি জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা—যেমন অনলাইন মাদরাসা, বিষয়ভিত্তিক অনলাইন কোর্স, অনলাইন ইসলামী পাঠচক্র, দ্বীনি পত্র-পত্রিকা ও প্রকাশনা এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপস ও ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী তৈরি। সর্বসাধারণের মাঝে কুরআনের ভাষা সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী থানা ও জেলা পর্যায়ে আরবি ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ।
- সেবা দুঃস্থ, অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সাধ্যমতো সহায়তা ও সেবা প্রদান করা। শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক কল্যাণের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক মূল্যবোধকে বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা।
- দাওয়াহ মুসলিম ও অমুসলিম—সকল শ্রেণির মানুষের কাছে ইসলামের শান্তি, সৌন্দর্য ও মানবকল্যাণের বার্তা প্রজ্ঞা, সৌজন্য ও উত্তম পদ্ধতিতে পৌঁছে দেওয়া। দাওয়াহকে কেবল বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জ্ঞান, চরিত্র, সেবা ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শকে মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা।